৬ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | রবিবার, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

১০ বছরে ভারতীয় বিমানবাহিনী থেকে ইস্তফা ৮০০ পাইলটের

প্রকাশিতঃ আগস্ট ১৯, ২০২০, ৯:২০ পূর্বাহ্ণ



১০ বছরে ভারতীয় বিমানবাহিনী থেকে ইস্তফা ৮০০ পাইলটের। ছবি সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সঙ্ঘাতের মধ্যে সামরিক ক্ষেত্রে আধুনিকীকরণে উদ্যোগী হয়েছে ভারত সরকার। বিমানবাহিনীর হাত মজবুত করতে তাই ফ্রান্স থেকে রাফাল যুদ্ধবিমানও উড়িয়ে আনা হয়েছে ভারতে। কিন্তু প্রতি বছর বিমানবাহিনীর পাইলটরা যে ভাবে চাকরি ছাড়ছেন, সেটাই এখন মাথাব্যথার সবচেয়ে বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের। সাম্প্রতিক কালে ঠিক কতজন পাইলট বিমানবাহিনীর চাকরি ছেড়েছেন, তা জানতে তথ্যে অধিকার আইন (আরটিআই)-এ জানতে চেয়েছিল সর্বভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম। বিমানবাহিনীর তরফে তার যে জবাব এসেছে, তা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। বলা হয়েছে, গত ১০ বছরে ৭৯৮ জন পাইলট বিমানবাহিনী থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।

এই মুহূর্তে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৮০ জন পাইলট বিমানবাহিনী থেকে ইস্তফা দেন। তবে গত ১০ বছরের মধ্যে ২০১৬ এবং ২০১৭ সালেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পাইলট বিমানবাহিনী থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। বিমানবাহিনীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ১০০ জন এবং ২০১৭-য় ১১৪ জন পাইলট ইস্তফা দেন। অবসরের বয়স হওয়ার আগে ২০১৫ সালে ৩৭ জন পাইলট পদত্যাগ করেন, গত এক দশকে যা সর্বনিম্ন।

বিমানবাহিনীতে পাইলটের ঘাটতি রয়েছে, এ কথা আগেই রাজ্যসভায় জানিয়েছিল সরকার। ২০১৮-র ১ ফেব্রুয়ারি রাজ্যসভায় সরকারের তরফে জানানো হয়, বিমানবাহিনীতে ৪ হাজার ২৩১টি পাইলট পদ রয়েছে। কিন্তু সেই সময়েই বিমানবাহিনীতে পাইলটের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৮৫৫। অর্থাৎ তখনই নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে ৩৭৬ জন পাইলট কম ছিলেন। তার পর ২০১৮ এবং ২০১৯-এ যথাক্রমে ৯০ ও ৯১ জন পাইলট ইস্তফা দিয়েছেন।

ঠিক কী কারণে দলে দলে পাইলটরা বিমানবাহিনী থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন, তা খতিয়ে দেখতে দু’বছর ধরে বিমানবাহিনীর অন্দরে একটি সমীক্ষা চালানো হয়। গত মে মাসের শুরুতে তার রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসে। সেখান থেকে জানা যায়, ৩২ শতাংশ পাইলট কাজের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ট নন। ২৫ শতাংশের ধারণা, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এর চেয়ে ভালো। ঘন ঘন জায়গা বদলানোয় সমস্যা হচ্ছে বলে জানান ১৯ শতাংশ। ক্যারিয়ারে উন্নতির সম্ভাবনা তেমন নেই বলেও জানান ১৭ শতাংশ পাইলট। ৭ শতাংশ পাইলট আবার বেতনে সন্তুষ্ট নন।

বিমানবাহিনীর সূত্রে খবর, কয়েক বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পাইলটরা মাসে প্রায় ২ লক্ষ রুপি বেতন পান। কিন্তু বিমানবাহিনীর চাকরি ছেড়ে বেসরকারি বিমান সংস্থায় যোগ দিলে, তার চেয়ে চার গুণ বেশি বেতন মেলে। তাই বিমানবাহিনীর চাকরি ছেড়ে অনেকেই বেসরকারি বিমান সংস্থায় যোগ দেন। আবার ২০ বছর চাকরি করলেই, পেনশন পাওয়া যায়। তাই বিমানবাহিনীতে ২০ বছর কাটিয়ে ফের অন্যত্র কাজে যোগ দেয়ার ঘটনাও রয়েছে।

বিমানবাহিনীর চাকরি থেকে ইস্তফা দেয়ার পর যাতে বেসরকারি সংস্থায় বিমান ওড়াতে বাধা না থাকে, তার জন্য গত ১০ বছরে বিমানবাহিনীর কাছ থেকে ২৮৯ জন পাইলট নো অবজেকশন সার্টিফিকেট পেয়েছেন বলে জানা গেছে। অর্থাৎ গত দশ বছরে যত সংখ্যক পাইলট বিমানবাহিনী থেকে ইস্তফা দিয়েছেন, তাদের একটা বড় অংশই বর্তমানে কোনো না কোনো বাণিজ্যিক বিমান সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। তবে চাকরি ছাড়ার পর এই মুহূর্তে কতজন পাইলট বেসরকারি বিমান সংস্থায় কর্মরত, সেই সংক্রান্ত কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই বলে জানিয়েছে ভারতের বিমানবাহিনী। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

Leave a Reply