২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | বুধবার, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

স্ত্রীর মর্যাদা পেতে ৪ দিন ধরে মাগুরায় সেনা সদস্যের বাড়িতে অনশন করছে কলেজ ছাত্রী

প্রকাশিতঃ জুলাই ১৮, ২০২০, ৮:৫৩ অপরাহ্ণ




মাগুরা প্রতিনিধি
বিয়ের দাবিতে ও স্ত্রীর মর্যদা পেতে ৪ দিন ধরে মাগুরা সদর উপজেলার জগদল ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে প্রেমিক সেনা সদস্য ইব্রাহীমের বাড়িতে অনশন করছেন একই গ্রামের ইন্টার মিডিয়েট পড়ুয়া মেয়ে।

সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, লক্ষীপুর গ্রামের ইদ্রিস বিশ্বাসের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে ৪ দিন ধরে অনশন করে চলেছে মেয়েটি। অনশনরত বাড়িতে থাকাকালীন ছেলের বাড়ির পক্ষ থেকে মেয়েটিকে নানা রকম অশ্লীল কুরুচিপূর্ণ কথাবর্তা বললেও মেয়েটি তার দাবীতে অনড় রয়েছে।

মেয়েটি জানান, আমাদের গ্রামের ইদ্রিস বিশ্বাসের ছেলে ইব্রাহিমের সাথে তার ৫ বছর প্রেমের সর্ম্পক রয়েছে। আমার বাবা বিদেশে থাকার সুবাদে ৫ বছর আগে স্কুলে যাওয়া আসার পথে সে আমার সাথে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে তোলে। আমার বাবা ওমান ৫ বছর থেকে এসে তার পর গত ২ বছর মালায়েশিয়া রয়েছেন। সে আমাকে বিয়ে করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিলে উভয় পরিবারের সম্মতিতে এত দুর এগিয়েছি। আমার বাবা বিদেশে থাকায় ও কোন অভিভাবক না থাকায় ইব্রাহীমের পরিবার আমাদের দেখাশুনা করে। ইব্রাহীম বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে রংপুর ক্যান্টোনমেন্টে বীর কোরে সৈনিক পদে কর্মরত রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ইব্রাহীম আমার মায়ের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা ধার হিসাবে গ্রহণ করে। উভয় পরিবারের সম্মতি থাকায় সে আমাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারিরীক সর্ম্পক গড়ে তোলে। আমি জানতে পারি তার পরিবার তাকে গোপনে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ সব শোনার পর আমি নিজে জুলাই মাসের ১২ তারিখে আত্মহত্যার চেষ্টা করি। অসুস্থ অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে এসে আমি বিয়ের দাবিতে ইব্রাহীমের বাড়িতে অবস্থান গ্রহন করি। এ বাড়ির লোকজন আমার সাথে অমানুষিক নির্যাতন করছে যা সহ্য করার না। এ অবস্থা চলতে থাকলে ও স্ত্রীর মর্যদা না পেলে অত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোন পথ আমার খোলা নেই।

ছেলের বাবা ইদ্রিস বিশ্বাস বলেন, মেয়েটির সাথে আমার ছেলের সর্ম্পকের কথা আমরা জানি না। আমার ছেলে কোনদিন আমাদের কাছে তাকে বিয়ের কথা বলেনি। আমি মেয়েটিকে চিনি। সে আমাদের গ্রামেরই মেয়ে। আমার ছেলে এ বিয়েতে রাজী নয়। সে অন্যত্র বিয়ে করার জন্য আমাদের পরিবারে প্রস্তাব দিয়েছে। তাই আমরা তার বিয়ের জন্য অন্যত্র মেয়ে দেখার চেষ্টায় ছিলাম এরই মধ্যে মেয়েটি আমাদের বাড়িতে এসে ঝামেলায় ফেলে দিয়েছে।

মেয়ের মাতা নার্গিস আক্তার বলেন, বিছুদিন আগে আমার মেয়ের একটি বিয়ে ঠিক হয়। বিয়ের সব কিছু ঠিক হয়ে গেছে শুনে ইব্রাহীম ও তার মা আমাদের বাড়ীতে এসে তার সাথে বিয়ের কথা বলে বিয়ে ভেঙ্গে দিতে বলে। তাদের কথা বিশ্বাস করে আমি আমার মেয়ের বিয়ে ভেঙ্গে দিই। এখন তারা আমাদের সাথে নানা রকম ছলচতুরি করছে।

জগদল ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার রবিউল ইসলাম বলেন, আমার চেয়ারম্যান করোনা আক্রান্ত হওয়ায় সে বর্তমানে অসুস্থ। আমি তাকে বিষয়টি জানিয়েছি। উভয়পক্ষ থেকে এখনো কোন সালিশ হয়নি। এ বিষয়ে গ্রামের কিছু মানুষের সাথে বসে আমি সমাধানের চেষ্টা করছি।

এ ব্যাপারে মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জয়নুল আবেদীন জানান, বিষয়টি জেনেছি, উভয় পরিবারের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

Leave a Reply