৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | শনিবার, ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

সৈয়দপুরে মৃত ব্যক্তির নামে বয়স্ক ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ

প্রকাশিতঃ জুলাই ২২, ২০২০, ১০:০৪ অপরাহ্ণ




নীলফামারী প্রতিনিধি
নীলফামারীর সৈয়দপুরে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে বয়স্ক ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে এক মহিলা কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে কার্ডধারীর স্বজনরা অভিযুক্ত কাউন্সিলরের শাস্তি দাবি করেছেন। এ নিয়ে এলাকায় গুঞ্জণ শুরু হয়েছে।

জানা যায়, সৈয়দপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নিচু কলোনী চৌধুরী পাড়ার মৃত মহির উদ্দিনের স্ত্রী খুকি বেগমের নামে বয়স্ক ভাতা কার্ড ছিল। যার হিসাব নং ১৬২, বই নং ১৮৮। তিনি গত ২০১৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর মারা যান। এরপর তার ছেলে খুরশিদ আলম মৃত মায়ের ভাতা কার্ডটি পৌর ৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আল মামুন সরকারের মাধ্যমে প্রসেস করে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসে জমা দিতে যাওয়ার পথে ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর কনিকা রানী সরকার তার কাছ থেকে কার্ডটি নিয়ে নেন।

এসময় খুরশিদের হাতে ১ হাজার ৫শ’ টাকা ধরিয়ে দিয়ে বলেন, আমি কার্ডটি সমাজ সেবা অফিসে জমা করে দিবো। তুমি বাড়ি চলে যাও। কনিকা রানীর কথামত খুরশিদ বাড়ি ফিরে আসে। কিন্তু সম্প্রতি সে জানতে পারে তার মায়ের নামটি এখনও সমাজ সেবা অফিসের বয়স্কভাতা প্রাপ্তদের তালিকায় বিদ্যমান এবং কে বা কাহারা ওই কার্ড দিয়ে নিয়মিত ভাতার টাকা উত্তোলন করছেন।

এ ব্যাপারে খুরশিদ জানান, যেহেতু কার্ডটি আমার কাছ থেকে কনিকা রানী নিয়েছেন। কিন্তু সমাজ সেবা অফিসে জমা দেননি। তিনি যদি জমা দিয়ে থাকেন তাহলে কেন এখনও তালিকায় আমার মায়ের নাম আছে। তাই তিনি নিজেই বা কাউকে দিয়ে টাকা তুলছেন। এ ব্যাপারে খুরশিদ এ ধরণের অনিয়ম ও দূর্নীতির বিচার দাবি করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসের কর্ম সহকারী মুশফিকুর রহমান টুটুল জানান, আমরা খুকি বেগমের মৃত্যুর খবর জানিনা। এটা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর বা মহিলা কাউন্সিলরই জানানোর কথা। কিন্তু তারা কেউ ইতোপূর্বে জানায়নি। আপনারা যখন জানানেল তখন বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

সোনালী ব্যাংক সৈয়দপুর শাখার ব্যবস্থাপক মো. মাহমুদুজ্জামান বলেন, গত ডিসেম্বর থেকে ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে কার্ডধারীদের শনাক্ত করে টাকা প্রদানের ক্ষেত্রে যাচাই বাছাই করা সম্ভব হয়নি। একারণে কার টাকা কে উত্তোলন করেছেন তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছেনা। তবে সমাজ সেবা অফিস থেকে যদি মৃত ব্যক্তির তালিকা প্রদান করা হতো তাহলে ভাতা প্রদানের কোন সুযোগই থাকতো না। তারা নিয়মিত তদারকি করে আপডেট লিষ্ট না দেয়ায় এমন হয়ে থাকতে পারে।

এদিকে একটি সূত্রের অভিযোগ, সমাজ সেবা অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীদের সাথে যোগ-সাজশ করে মহিলা কাউন্সিলর নিয়মিত অনেক ভাতা ভোগীর মৃত্যুর পর তাদের কার্ড হাতিয়ে নিয়ে নিজে বা লোক দিয়ে টাকা উত্তোলন করে চলেছেন। এক্ষেত্রে সোনালী ব্যাংকের লোকজনও জড়িত। এই ত্রিপক্ষ সংঘবদ্ধভাবে এ দূর্নীতি করে চলেছে।

উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার হাওয়া খাতুন বলেন, মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে যদি কেউ টাকা উত্তোলন করে থাকে তা তদন্তে প্রমাণিত হলে তালিকা থেকে নাম বাদ দেয়া হবে। জড়িতদের অপরাধের কোন শাস্তির বিধান আমাদের নীতিমালায় নেই। তাই ধরা পড়লেও তাদের ব্যাপারে আমরা কোন পদক্ষেপ নিতে পারবোনা।

এভাবে সমাজ সেবা অফিস ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ একে অপরের উপর দোষ ও দায়িত্ব চাপিয়ে দিনের পর দিন তসরুপ করে চলেছে সরকারী সুবিধাভোগীদের টাকা। কোনভাবে কখনও যদি কারও তথ্য ফাঁস হয়ে যায় তখন শুধুমাত্র তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়া হয়। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়না। ফলে দিন দিন এ অপকর্ম করে যাচ্ছে জালিয়াতচক্র।

এ ব্যাপারে পৌর মহিলা কাউন্সিলর ও উপজেলা পরিষদের সদস্য কনিকা রানী সরকারের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, খুরশিদ কি বললো তাতে আমার কিছু যায় আসেনা। কত দিন আগের কথা এটা আমার মনে নাই। তবে এমন কাজ কখনই করি নাই। তাই আমি কাউকে ভয়ও পাইনা।

Leave a Reply