২৭শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | শুক্রবার, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

সমুদ্র অর্থনীতির গুরুত্ব বিবেচনায় কোস্টগার্ডকে আরো শক্তিশালী করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ১৫, ২০২০, ৩:০৪ অপরাহ্ণ | শেষ আপডেটঃ নভেম্বর ১৫, ২০২০, ৩:০৬ অপরাহ্ণ



প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি সংগৃহীত

পঁচাত্তর রিপোর্ট:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ কোস্টগার্ডকে আরো শক্তিশালী করা হবে যাতে তারা সরকারকে ‘ব্লু ইকোনমি’র (সমুদ্র অর্থনীতি) সম্ভাব্যতা কাজে লাগাতে সহায়তা করতে পারে।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সব সদস্যকে দেশপ্রেম ও সততার সাথে তাদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্লু ইকোনমি এবং ভিশন ২০৩০ ও ২০৪১ মাথায় রেখে সরকার কোস্টগার্ডের জনবল পর্যায়ক্রমে ৪ হাজার ৭৮১ থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার করার পরিকল্পনা করেছে।’

রোববার উপকূলীয় এই বাহিনীর বহরে যুক্ত হওয়া নয়টি নতুন নৌযানের কমিশনিং প্রদানকালে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

গণভবন থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে এ কমিশন ঘোষণার পর রিমোট কন্ট্রোল সুইচের মাধ্যমে নৌযানগুলোর নামফলক উন্মোচন করেন তিনি।

এসব নৌযানের মধ্যে রয়েছে দুটি অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল (ওপিভি), পাঁচটি ইনশোর প্যাট্রোল ভেসেল (আইপিভি), দুটি ফাস্ট প্যাট্রোল বোট (এফপিবি)। এছাড়া উদ্বোধন করা হয়েছে ‘বিসিজি বেইজ ভোলা’ নামে নতুন একটি ঘাঁটি।

ভবিষ্যতে কোস্টগার্ডের অগ্রযাত্রা বজায় রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আপনাদের বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে যাতে কোস্টগার্ডের সুনাম সর্বদা অক্ষত থাকে।’

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধীনে থাকা নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড এবং খুলনা শিপইয়ার্ডে দুটি ইনশোর প্যাট্রোল ভেসেল (আইপিভি), একটি ভাসমান ক্রেন, দুটি টাগ-বোট এবং ১৬টি বোট তৈরি চলছে।

‘শিগগিরই এগুলো কোস্টগার্ডের বহরে অন্তর্ভুক্ত করা হবে,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

মেরামত কাজ ও রক্ষণাবেক্ষণের সক্ষমতা বাড়াতে কোস্টগার্ডের জন্য গজারিয়ায় একটি ডকইয়ার্ড নির্মাণের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন সরকার প্রধান।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘এই বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য হোভারক্রাফট, ড্রোন, ৩৫০০ মেট্রিক টন জাহাজ সংগ্রহ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমরা কোস্টগার্ডকে একটি আধুনিক ও সময়োপযোগী শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

বাংলাদেশকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ হিসেবে অভিহিত করে শেখ হাসনিা বলেন, ‘দেশের মানুষকে এই সব বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়ে জীবনযাপন করতে হয়। আমাদের এগুলো নিয়েই বাঁচতে হবে, সব দুর্যোগের মুখোমুখি হয়ে মানুষের জীবন বাঁচাতে আমাদের মনোযোগ দিতে হবে, আমাদের সেই সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ বিশাল সমুদ্র অঞ্চল পেয়েছে যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কাজে লাগানো যেতে পারে।

‘বঙ্গোপসাগর একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র, অনেক দেশের ব্যবসা ও বাণিজ্য এই অঞ্চল দিয়ে চলে,’ বলেন তিনি।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, সরকার দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে সুরক্ষা দিতে চায় এবং তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি করতে চায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমাদের সমুদ্রসম্পদকে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করতে চাই, এজন্য আমরা ব্লু ইকোনমি ঘোষণা করেছি, আমরা কীভাবে দেশের সমুদ্রসম্পদকে দেশের উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করতে পারি সে বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।’

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল এম আশরাফুল হকও এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

সূত্র : ইউএনবি

Leave a Reply