২১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং | বুধবার, ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

যেসব লক্ষণে বুঝবেন কোনটা এলার্জি আর কোনটা হাঁপানি

প্রকাশিতঃ মার্চ ৪, ২০২০, ৪:১০ অপরাহ্ণ



ছবি সংগৃহীত

 

লাইফস্টাইল ডেস্ক:
হাঁপানি একটি দীর্ঘমেয়াদী রোগ যার মূল লক্ষণ হল শ্বাস কষ্ট ও সাঁসাঁ শব্দে নিঃশ্বাস ফেলা। হাঁপানি আক্রমণের সময় শ্বাসনালীর আস্তরণ ফুলে যায়, যার ফলে শ্বাসনালী এতটাই সংকীর্ণ হয়ে যায় যে প্রশ্বাস ও নি:শ্বাসে শ্বাসবায়ুর গতি অনেকটাই কমে যায়। হাঁপানির কারণ এখনো পুরোটা বোঝা যায়নি। তবুও, অ্যালার্জি, তামাকের ধোঁয়া ও রাসায়নিক উত্তেজক পদার্থে হাঁপানি ক্রমশ: বৃদ্ধি পায় ও এগুলোকে হাঁপানি রোগের মূল কারণ হিসেবে ধারা হয়। হাঁপানির পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব নয়, কিন্তু যথাযথ পরিচালনায় এই রোগটিকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। উন্নত মানের সুস্থ জীবন যাপনের জন্য সঠিক পরিচালনার প্রয়োজন।

হাঁপানি রোগ খুবই কষ্টদায়ক। এ রোগে কাশির সঙ্গে খুব বেশি শ্বাসকষ্ট হয়। সঠিকভাবে চিকিৎসা না করালে ভোগান্তির শেষ থাকে না। হাঁপানি রোগের কারণ জেনে তার থেকে দূরে থাকলেই অনেকটা রোগ নিরাময় করা সম্ভব।

যেসব লক্ষণের ভিত্তিতে হাঁপানি রোগ চেনা যায় :

ঘুরেফিরে ঘন ঘন সাঁসাঁ শব্দে নিঃশ্বাস ফেলা
শ্বাসকষ্ট
বুকে টান ধরা
ঘুমে ব্যাঘাত
কাশি
কাশির ফলে ফুসফুস থেকে থুতু উৎপন্ন হতে পারে। রাতে ও ভোরের দিকে অথবা এলার্জির ফলে উপসর্গগুলো খারাপের দিকে এগোয়।

হাঁপানির কারণ
হাঁপানির প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে, নির্দিষ্ট কতগুলো ঝুঁকির কারণ হাঁপানির সঙ্গে সংযুক্ত এবং নিম্নলিখিত বিষয়গুলো এদের মধ্যে পড়ে :

> এলার্জি বৃদ্ধির বংশগত প্রবণতা, যাকে অ্যাটোপি বলা হয় (অ্যাট-ও-পে)
> বাবা-মা’র হাঁপানি থাকলে (বংশগত)
> ধূলো,পশুর লোম, আরশোলা, ফুলের রেণু, ঘাস থেকেও এলার্জি হতে পারে।
> উত্তেজক বা প্রাদাহ্জনক সিগারেটের ধোঁয়া, বায়ু দূষণ, কাজের জায়গায় রাসায়নিক বা ধূলোবালি এবং স্প্রে (যেমন, চুলের স্প্রে)
> অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ অথবা অন্য কোনো অ্যান্টি স্টেরয়েড কিংবা ব্যথা কমানোর ওষুধ এবং ননসিলেক্টিভ বিটা ব্লকার।
> খাদ্য ও পানীয়ে সালফাইটের প্রভাব।
> ভাইরাসঘটিত শ্বাস-প্রশ্বাসসংক্রান্ত সংক্রমণ যেমন,-ঠান্ডা লাগা
> ব্যায়াম সহ শারীরিক কাজকর্ম
> শৈশবে বায়ুবাহিত অ্যালার্জি বা ভাইরাসঘটিত সংক্রমণের সংস্পর্শ অথবা শৈশবের গোড়াতে যখন রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা(অনাক্রমতা)সদ্য বিকাশের পথে

ঝুঁকি
>হাঁপানির উপসর্গগুলো ঘুম, কাজ ও বিনোদনের মাঝখানে বাধা-বিঘ্ন সৃষ্টি করে।
>স্থায়ীভাবে শ্বাসনালীকে সংকীর্ণ (শ্বাসপথের পুনর্গঠন) করে আপনার স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষমতকে বাধা দেয়।
>হাঁপানি বাড়াবাড়ি পর্যায়ে গেলে স্কুলে বা কাজে যাওয়া অসুবিধে হয়ে যায়।
>দীর্ঘ দিন হাঁপানির ওষুধ ব্যবহার করলে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

পার্থক্য আছে এলার্জি আর হাঁপানিতে
এলার্জি এবং হাঁপানির মধ্যে কিছুটা পার্থক্য আছে। যেমন কোনো বিষয়ে শরীরের সংবেদনশীলতা বেশি থাকে। এলার্জি বিভিন্ন জায়গায় হতে পারে। কারও চোখে এলার্জি (কঙ্কজাংটিভাইটিস) হয়। বসন্তের সময় বাতাসে প্রচুর ফুলের রেণু থাকে। এই রেণুর কারণে এলার্জি হতে পারে। এলার্জির কারণে নাক দিয়ে পানি পড়তে শুরু করে। এছাড়া গায়ে চুলকানি (এলার্জি ডার্মাটাইটিস), শরীরে লাল লাল গোল হয়ে ফুলে যাবে। এটাকে আমরা আরটিকেরিয়া বলি। এলার্জি কোনো রোগ নয়। এটি একটি ফ্যানোমেনা। এলার্জির মাধ্যমে বোঝা যায় কি প্রক্রিয়ায় রোগটি হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় অনেক রোগ হয়, তার একটি রোগ হচ্ছে হাঁপানি।

সতর্ক হতে হবে এলার্জির বিষয়ে
হাঁপানি রোগে যিনি ভুগছেন, তাকে বুঝতে হবে কোন জিনিসে তার এলার্জি আছে। কারও ফুলের রেণুতে এলার্জি হয়। কারও ঘরের ধুলায়, কার্পেটের নিচে, পর্দায়, চেয়ারের নিচে, তোষকের নিচে, বালিশের কভার পরিষ্কার করার সময় এলার্জি হয়। মাইট নামক এক প্রকার পোকার কারণে এটি হয়ে থাকে। মাইট খালি চোখে দেখা যায় না। ঠান্ডায় কিংবা খাবারেও অনেকের এলার্জি থাকে। কারও সিনথেটিক কাপড়ে এলার্জি হয়ে থাকে। ঘড়ি পরলে কারও ঘড়ির নিচের চামড়ায় এলার্জি হতে পারে। অর্থাৎ যে জিনিসে এলার্জি থাকবে, সেটি এড়িয়ে চলতে হবে। অর্থাৎ রোগীকে সচেতন করতে হবে।
তথ্য সূত্রঃ বিকাশপিডিয়া

Leave a Reply