২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | বৃহস্পতিবার, ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

মিরসরাইয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কার করছে এলাকাবাসী

প্রকাশিতঃ জুন ১৯, ২০২০, ৬:১৮ অপরাহ্ণ



মিরসরাই প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কার করছে এলাকাবাসী। উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের সাইবেনীখিল ত্রিপুরাপাড়ার দুই কিলোমিটার রাস্তাটি গত দুইদিন ধরে সংস্কার করা হয়। ২০১৮ সালে করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে রাস্তাটি নির্মিত হওয়ার পর ওই এলাকার জীবন যাত্রার মান পাল্টে যায়। রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দুই শতাধিকের বেশি সিএনজি অটোরিক্সা চলাচল করায় ও কালভার্ট না থাকায় রাস্তাটি অনেকটা বিলিন হতে চলছে। এতে করে ত্রিপুরাপাড়ার ৮৭ পরিবার সহ প্রায় ৩-৪ হাজার মানুষের চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে রোদে শুকিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে রাস্তা সংস্কার কাজ করে যাচ্ছে এলাকাবাসী।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, এক সময় এলাকাবাসী জমির আইল দিয়ে চলাচল করতো। তখন চলাচলে অকে কষ্ট হতো। বিশেষ করে বর্ষাকালে দুর্ভোগের শেষ ছিল না। তখনকার জনপ্রতিনিধিরা ভোটের আগে রাস্তা নির্মানের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার পর আর খবর নিতো না। এভাবে বছরের পর বছর কষ্ট করতে হয়েছে তাদের। রাস্তা না থাকার কারণে অসুস্থ হলে বৃদ্ধ, গর্ভবতি মহিলাদের সময় মতো হাসপাতালে নেয়া যেত না। চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে প্রাণ হারিয়েছেন অনেকে। পরে ২০১৮ সালে করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন এই রাস্তা নির্মাণ করেন।

সাইবেনীখিল ত্রিপুরা পাড়ার হেডম্যান ও সাইবেনীখিল রূপাইধন ত্রিপুরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি উষা ত্রিপুরা জানান, একসময় আমাদের পাড়ার লোকদের চলাচলের জন্য কোন সড়ক ছিল না। আমরা জমির আইল দিয়ে চলাচল করতো। এরপর আমরা এলাকার কয়েকজন মিলে উপজেলা ভূমি অফিসে যায়। কয়েক ব্যক্তির সহযোগীতায় আমরা সড়কের সিট খুঁজে পাই। এরপর সরকারী সার্ভেয়ার এসে রাস্তার জায়গা নির্ধারণ করে খুঁটি স্থাপন করে দেন। কিন্তু আমরা সড়ক নির্মাণ করতে চাইলে পাশের অনেক জমির মালিক বাঁধা প্রদান করে। পরবর্তিতে ২০১৮ সালে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়নের কাছে দরখাস্ত দিলে তিনি ওই বছরের ১৩ ফেব্রæয়ারি রাস্তা নির্মানের কাজ শুরু করেন। রাস্তা নির্মাণ হওয়ার পর আমাদের এলাকার মানুষের জীবন যাত্রার মান পাল্টে যেতে শুরু করে। রাস্তা নির্মাণ হওয়ার ফলে এলাকার পাহাড়ী বাঙ্গালী বাগান এবং কৃষি পন্য উৎপাদনে উৎসাহিত হয়। প্রতিদিন ওই এলাকা থেকে এই সড়ক লাখ লাখ টাকার লেবু, মৌসুমী ফল কাঁঠাল, কলা, লিচু, শিম, আম, পেয়ারাসহ বিভিন্ন কৃষি পন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়। এসব কৃষি পন্য পরিবহন করতে প্রতিদিন প্রায় দুই শতাধিক সিএনজি চলাচল করে। এতে করে রাস্তাটি প্রায় বিলিন হতে চলছে। তাই আমরা এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। দুইদিন কাজ করেছি আরো কয়েকদিন কাজ করতে হবে। আগামীতে রাস্তায় ইট বসানোর আশ্বাস দিয়েছেন চেয়ারম্যান নয়ন ভাই।

এই বিষয়ে করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন বলেন, আমি রাস্তাটি পরিদর্শন করেছি। বর্ষার পানি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে অনেক জায়গায় ভেঙ্গে গেছে। এক সময় জমির আইল ছিল। মানুষের চলাচলে অনেক কষ্ট হতো। ২০১৮ সালে পরিষদ ও আমার ব্যক্তিগত অর্থায়নে দুই কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করে দিয়েছি। রাস্তাটির বিষয়ে আমি ইউএনও স্যারকে অবহিত করেছি। আগামীতে রাস্তায় ইট বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে আমার।

এই বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, আমি রাস্তাটি দেখে আসার কথা কিন্তু করোনাকালে বিভিন্ন ব্যস্ততায় যাওয় সম্ভব হয়নি। আমরা শীঘ্রই এই রাস্তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবো।

Leave a Reply

এই বিভাগের আরো খবর