৩০শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | সোমবার, ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে এখনও মাকে খোঁজে তুবা

প্রকাশিতঃ জুলাই ২০, ২০২০, ১২:০৭ অপরাহ্ণ



মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে এখনো মাকে খোঁজে তুবা।

পঁচাওর রিপোর্ট:
এক বছর আগে সন্তানদের স্কুলে ভর্তির বিষয়ে খোঁজখবর নিতে গেলে রাজধানীর বাড্ডায় প্রাইমারি স্কুল গেটে ছেলেধরা সন্দেহে রেনুকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় অজ্ঞাত ৫০০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হলেও এখনো দাখিল করা হয়নি প্রতিবেদন।

এদিকে মাকে হারিয়ে ভালো নেই রেনুর মেয়ে তুবা। মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে মাকে এখনও খুঁজে বেড়ায় সে। তুবা সবসময় তার মায়ের কথা বলে। ঠিকমতো ঘুমায় না। মন খারাপ করে থাকে সারাক্ষণ।

নিহত রেনুর তাহসিন আল মাহির নামে ১১ বছরের একটি ছেলে ও তুবা নামের চার বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে। তারা এখন তার খালা নাজমুন নাহার নাজমার কাছেই থাকে।

মাহির বনানী বিদ্যানিকেতনে পঞ্চম শ্রেণিতে ও তুবা শিশুমেলা স্কুলে প্লেতে পড়ছে। তুবার খালা নাজমা বলেন, ‘তুবা সবসময় তার মায়ের কথা বলে। ঠিকমতো ঘুমায় না। মন খারাপ করে থাকে। এমনও হয় যে রাত ২টা বা ৩টার সময় ঘুম থেকে উঠে মাকে খোঁজে। ওর এই কষ্ট আর সহ্য হয় না!’

মামলার বাদী সৈয়দ নাসির উদ্দিন টিটু বলেন, ‘হত্যার এক বছর হয়ে গেল। কিন্তু এখনো মামলার তদন্ত শেষ হলো না। কবে তদন্ত শেষ হবে আর কবে বিচার পাব? এখন তো মনে হচ্ছে বিচারই পাওয়া যাবে না।’

মামলার তদন্তকারী তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবির পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল হক বলেন, ‘মামলাটির গুরুত্বসহকার তদন্ত চলছে। আমরা আশা করছি, খুব শিগগিরই আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে পারব।’

রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় গত বছরের ২০ জুলাই সকালে ছেলেধরা সন্দেহে তাসলিমা বেগম রেনুকে পিটিয়ে আহত করে বিক্ষুব্ধ জনতা। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওই ঘটনায় ওইদিন বাড্ডা থানায় ৪০০-৫০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন রেনুর ভাগ্নে নাসির উদ্দিন।

মামলা দায়েরের পর ১৪ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন–মো. শাহীন (৩১), মো. বাচ্চু মিয়া (২৮), মো. বাপ্পি (২১), ইব্রাহিম ওরফে হৃদয় মোল্লা (২০), মুরাদ মিয়া (২২), মো. সোহেল রানা (৩০), মো. বিল্লাল (২৮), মো. আসাদুল ইসলাম (২২), মো. রাজু (২৩), আবুল কালাম আজাদ (৫০), মো. কামাল হোসেন (৪০), মো. ওয়াসিম (১৪), রিয়া বেগম ময়না (২৭) ও মো. জাফর হোসেন (২০)। তাদের মধ্যে ওয়াসিম, হৃদয় ও রিয়া বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন পাঁচ আসামি। তারা হলেন–রিয়া বেগম, বাচ্চু মিয়া, শাহীন, মুরাদ ও বাপ্পি। জাগোনিউজ

Leave a Reply