৩০শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | সোমবার, ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

ভূরুঙ্গামারীতে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, দিশেহারা কৃষক

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ২৬, ২০২০, ৩:১৯ অপরাহ্ণ



ভূরুঙ্গামারীতে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, দিশেহারা কৃষক।

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
প্রাকৃতিক দূর্যোগ যেন কৃষকের পিছু ছাড়ছেই না। বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে না উঠতেই কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে গত তিন দিনের অবিরাম বৃষ্টি, দমকা ও ঝড়ো হাওয়ার কারণে কৃষকের সেই সোনালী স্বপ্ন মাটিতে মিশে গেছে।

উপজেলার বেশিরভাগ উঁচু এলাকার ক্ষেতের ধান গাছ মাটিতে নুয়ে পড়েছে। আমন ধানের সবে মাত্র শীষ ফুটতে শুরু করেছে। এই সময় বৃষ্টি আর বাতাসে ধানের শীষের ফুল ঝড়ে পড়ার কারণে ও মাটিতে নুয়ে পড়া ধান গাছ গুলো পঁচন ধরায় চলতি রোপা আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা দেখা দিয়েছে।

উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে শত শত হেক্টর আমন ক্ষেতের ধান গাছ গুলো দুমড়ে মুচরে হেলে যেন মাটিতে শুয়ে পড়েছে। হেলে পড়া ধানের শীষ পঁচে নষ্ট হওয়ায় আশংকা করছেন কৃষকরা। তারা প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন ধান গাছ গুলো গোছা করে আটি বেঁধে খাড়া করে রাখতে। অনেক জায়গায় কৃষক হেলে পড়া ধান গুলো কেটে গরুকে খাওয়াচ্ছেন।

উপজেলার পাইকের ছড়া ইউনিয়নের পাইক ডাঙ্গা গ্রামের কৃষক নজরুল জানান, বন্যায় নীচু এলাকার আমন ধান গুলো পঁচে নষ্ট হয়ে গেছে অনেক আগেই। উচু জমিতে কিছু ধান ছিল । কিন্তু তাদের দেড় থেকে দুই বিঘা আমন খেত বাতাসে হেলে মাটিতে শুয়ে পড়েছে। ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি।

গছিডাঙ্গা গ্রামের কৃষক রেজাউল জানান, দমকা হাওয়ায় তার প্রায় দেড় বিঘা জমির ধান মাটিতে পড়ে গেছে। এবার আমন ধানের আবাদে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির শিকার হবেন।

ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের নলেয়া গ্রামের কৃষক শহিদুল মিয়া জানান, তার আমন ক্ষেতে কেবল মাত্র ফুল এসেছে। এরমধ্যে বাতাস আর বৃষ্টি হওয়ায় ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে মোট ১৬ হাজার ৭১৪ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩০ হেক্টর জমির ধান মাটিতে হেলে পড়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, প্রাকৃতিক দূর্যোগে তো আমাদের করার কিছু থাকে না। আমরা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের হেলে পড়া ধান গাছগুলো ছোট ছোট করে আঁটি বেঁধে তুলে দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। এ ছাড়াও যে সব জমিতে পানি জমেছে সেই জমির আইল কেটে পানি বের করে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। এতে করে কৃষকের ক্ষতির পরিমান কিছুটা হলেও কমবে।

Leave a Reply