১লা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | মঙ্গলবার, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

বগুড়ার শেরপুরে ৪০ হাজার কোরবানীর পশু প্রস্তুত

প্রকাশিতঃ জুলাই ১৭, ২০২০, ৪:২৯ অপরাহ্ণ




বগুড়া সংবাদদাতা
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় গরুর খামারের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর খামারের সংখ্যা হয়েছে প্রায় দুইগুণ। উপজেলার প্রাণিসম্পদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর গো-খামারী ও কৃষক কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে প্রাণিসম্পদের প্রত্যক্ষ পরোক্ষ সহযোগীতায় ২৭ হাজার ৭শ ৫৩টি গরু ও ১৩হাজার ছাগল, ভেড়া লালন পালন করে দেশিয় প্রযুক্তিতে প্রস্তুত করেছে।

এছাড়াও কয়েক হাজার পরিবার রয়েছে যারা পারিবারিকভাবে গরু লালন পালন করেন। বাণিজ্যিকভাবে স্থাপিত খামার ও পারিবারিকভাবে পশুপালন-দুই শ্রেণীর খামারিদের মূল লক্ষ্য থাকে কোরবানির ঈদ। আর এবারের ঈদকে সামনে রেখে উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় প্রায় ৪০ হাজার কোরবানীর পশু বিক্রির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

ক্ষতিকর কেমিক্যাল বা ওষুধ ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এসব গরু পালন করা হয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে নিয়মিত মনিটরিং এবং প্রশিক্ষণ প্রদান করায় খামারিরাও এ বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন। ফলে নিরোগ ও পুষ্টিকর মাংসের জন্য এখানকার গরু, ছাগল, ভেড়ার চাহিদা বাড়ছে।

সুঘাট ইউনিয়নের জয়লা গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম শামিম শেরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আমির হামজা সহযোগিতায় এবার একটি খামারেই কোরবানি জন্য ৫০টি গরু দেশীয় পদ্ধতিতে প্রস্তুত করছে।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, খড়কুটা, গমের ভুসি, ধানের কুড়া, ভুট্টা, মুগ ও লাও দিয়ে পাকানো জাউ এবং বিভিন্ন ধরনের ঘাস, কলমিলতা খাবার হিসেবে গরুকে দেয়া হয়। তিনি আরো বলেন, আমি ব্যবসা করতে গিয়ে পুজি হারিয়েছি। পরে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ও মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে আমি খামারটি গড়ে তুলেছি। গরুর কোনো সমস্যা হলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে সেখান থেকে যথাযথ চিকিৎসা দেন। প্রশিক্ষণ নেয়ায় আমরাও ছোটখাটো সমস্যার সমাধান করতে পারছি। এবং খামারটিতে ৪জন মানুষের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে।

হাসপাতাল রোডের গরু খামারি শফিকুল ইসলাম জানান, আমার একটি ষাড় গরু আছে যার দাম ৪লক্ষ টাকা বলছে আমাদের আশা ৬ লক্ষ হবে।

খামারি তোতা মিয়া উপজেলার উলিপুর-১২টি গরু, ছদরুল ইসলাম মহিপুর-১৭টি গরু, রফিকুল ইসলাম জয়লা ৮টি গুরু, আবুল খায়ের বিনোদপুর ৪টি গরু আছে তারা জানান, এবার করোনার জন্য গরুর দাম তুলনা মুলক কম। ভারতীয় গরুর আমদানী রুখতে পারলে তারা ভাল দাম পাবেন বলে আশা করছে। তবে সাম্প্রতিক বন্যা ও করোনার কারনে তাদের মনে কিছু ভয় রয়েছে।

খামারে গরু কিনতে আসা ক্রেতা কোরবান আলী তিনি বলেন, খামারের গরুগুলো দেশীয় পদ্ধতিতে পালন করে হৃষ্টপুষ্ট করা হয়। যার কারণে মাংসে কোনো ক্ষতিকর উপাদান থাকে না। খামার থেকে সরাসরি কোরবানির গরু কেনাটা নিরাপদ। প্রতিবছর তিনি কোনো না কোনো খামার থেকে কোরবানির গরু কিনে থাকেন।

শেরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আমির হামজা জানান, আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৪০ হাজারের বিশি গবাদি পশু হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে। এসব পশুর প্রতিষেধক টিকা প্রদান নিশ্চিত করা হয়েছ। নিরাপদ গরুর মাংস উৎপাদনের জন্য খামারিদের প্রশিক্ষণ দেয়ায় সুফলও পাওয়া যাচ্ছে। ক্রেতাদের মাঝে এখানকার গরুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আশা করছি, এ বছর খামারি ও কৃষকেরা তাদের গরুর ভাল দাম পাবে। তিনি আরো জানান, উপজেলার বিভিন্ন হাটগুলোতে মেডিক্যাল টিম পর্যবেক্ষণ রাখছে।

এ বিষয়ে শেরপুর পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, করোনা কালিন সময়ে কোরবানির পশুর ক্রেতা বিক্রেতা যেন নিরাপদে ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে এ জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা প্রহন করা হয়েছে।

উপজলো নির্বাহী অফিসার লিয়াকত আলী জানান, আমরা দুরত্ব বজায় রেখে কোরবানির পশুর হাট লাগিয়েছি। স্বাস্থ্য বিধি নেমে চলার জন্য বিভিন্ন হাট ফাঁকা জায়গায় লাগানো হয়েছে এবং সেখানে মাইকিং ও করা হচ্ছে ।

Leave a Reply