২৮শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | শনিবার, ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

ফ্রিজে কি করোনাভাইরাস থাকতে পারে?

প্রকাশিতঃ জুলাই ২৫, ২০২০, ২:২৪ অপরাহ্ণ



ফ্রিজে কি করোনাভাইরাস থাকতে পারে? ছবি প্রতীকী

লাইফস্টাইল ডেস্ক:
করোনা-হানার দিনগুলোয় বদলে গেছে বেঁচে থাকার রোজনামচা। দৈনিক ব্যবহারের জিনিসপত্র নিয়েও তৈরি হয়েছে সংশয়। সকাল-বিকেল আপনার নিত্যসঙ্গী ফ্রিজ নিয়েও সম্প্রতি শুরু হয়েছে আতঙ্ক। হোয়াটসঅ্যাপ খুললেই করোনা ও ফ্রিজের সুসম্পর্কের মেসেজ প্রায় সকলের চোখে পড়ছে। দাবি করা হচ্ছে, করোনা নাকি ফ্রিজের ঠান্ডায় দিব্য থাকতে পারে! শুধু তাই-ই নয়, ফ্রিজের তাপমাত্রাতেই নাকি তার বাড়বাড়ন্ত! দেখেশুনে মাথায় হাত গৃহস্থের।

তাহলে কি ফ্রিজে আর রাখতে পারব না দরকারি দুধ, ফল, পাউরুটি, মাছ-গোশতটুকু? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

সংক্রামক অসুখ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অমিতাভ নন্দী দৃঢ়ভাবে এই ধারণার বিরোধিতা করে জানিয়েছেন, আজ পর্যন্ত সার্স কোভ-২ নিয়ে এমন কোনো গবেষণাপত্র কোথাও প্রকাশিত হয়নি। নিয়ম মেনে ফ্রিজ ব্যবহার করলে কোনো ভয় নেই। এ সব ভ্রান্ত ধারণা। প্রভাবিত হবেন না। তাহলে কি গৃহস্থ নিশ্চিন্তে তাঁদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ফ্রিজে চালান করতে পারবে?

ভাইরোলজিস্ট ডঃ সৌম্যদীপ্ত রায় বলছেন, নিয়ম মানলে আলবাত পারবেন। করোনার সারা শরীর প্রোটিন স্পাইকে ভরা থাকায় এই ভাইরাস সাবানের ক্ষারেই জব্দ। তাই ভালো করে সব্জি ও বাসন ধুয়ে ফ্রিজে রাখলে কোনো ভয় নেই। কিন্তু তাই যদি হয়, এত আতঙ্ক হঠাৎ ছড়াল কেন?

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডাঃ সুবর্ণ গোস্বামীর মতে, এক সময় সার্স ও মার্স ভাইরাস নিয়ে গবেষণায় দেখা যায়, তারা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার নীচে বেশি কার্যকর হয়ে উঠছে। কিন্তু মনে রাখবেন, সার্স গ্রুপের নানা ভাইরাসের প্রকৃতি আলাদা। সার্স কোভ-২ ফ্রিজে থাকতে পারে কি না, এ নিয়ে কোনো তথ্য নেই। তবে কোভিড ছড়ানোর আগে থেকেই বিভিন্ন ভাইরাসের হানার সময় ফ্রিজকে কীভাবে জীবাণুমুক্ত রাখা যায়, তা নিয়ে কিছু বিধিনিষেধ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছিল। অমিতাভবাবু তার সঙ্গে যোগ করলেন আরো বাড়তি কিছু নিয়ম।

ক’টি বিষয় খেয়াল রাখুন—
• বাজার থেকে সব্জি এনে সম্ভব হলে সেগুলোকে পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট দিয়ে ধুয়ে নিন, শুকিয়ে ফ্রিজে রাখুন।

• কাঁচা মাছ বা গোশত ফ্রিজে রাখতে অসুবিধা নেই। ভয়ও নেই।

• মাছ-গোশত প্যাকেট থেকে বারবার বার করে, ধুয়ে তা থেকে দিনের প্রয়োজনীয়টুকু আলাদা করে বাকিটা ফের ফ্রিজে রাখার অভ্যাস ভালো নয়। এতে খাবারের গুণগত মান খারাপ হয়। ঠান্ডা-গরমে ব্যাকটেরিয়ার হানা বাড়ে। বাজার থেকে আসার পরই স্যানিটাইজ করা প্যাকেটে দিন অনুযায়ী মাছ-গোশত আলাদা করে রাখুন। যেমন, তিন দিনের জন্য সেখানে বরাদ্দ হবে তিনটি প্যাকেট। যেদিন যেটা লাগছে, বের করে ধুয়ে রান্না করুন।

• ডিম সাবান পানি ধুয়ে ফ্রিজে রাখুন।

• পাউরুটি ও দুধের প্যাকেট রাখার আগেও সেগুলো স্যানিটাইজ করে রাখুন। দেখে নিন এক্সপায়ারি ডেট।

• যারা দুধ ফুটিয়ে ফ্রিজে রাখবেন, তারা প্যাকেট স্যানিটাইজ করে খুলে দুধ ফুটিয়ে নিন।

• ফ্রিজ সপ্তাহে এক দিন পরিষ্কার করুন।

সূত্র : বর্তমান

Leave a Reply