২৫শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | বুধবার, ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

পদ্মা সেতুর ক্ষতির আশঙ্কায় মাওয়ায় রাতে ফেরী চলাচল বন্ধ

প্রকাশিতঃ আগস্ট ৩০, ২০২০, ১১:১৩ অপরাহ্ণ



পদ্মা সেতুর ক্ষতির আশঙ্কায় মাওয়ায় রাতে ফেরী চলাচল বন্ধ। ছবি সংগৃহীত

পঁচাওর রিপোর্ট:
পদ্মা সেতুর নিরাপত্তা বিবেচনায় শিমুলিয়া (মাওয়া ঘাট)-কাঠালবাড়ী নৌ-রুটে রাতে ফেরী চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

শনিবার রাত থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত ফেরী চলাচল বন্ধ থাকবে।

বাংলাদেশের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলছেন, এখন যেভাবে নদীর ভাঙ্গন হচ্ছে, যেভাবে পলি জমে গেছে, স্রোতের কারণে আমাদের ফেরীগুলো ঠিক মতো চলতে পারছে না।

‘প্রবল স্রোতের কারণে আমাদের একদিকে রুটগুলো বারবার চেঞ্জ হচ্ছে, পাশাপাশি পদ্মাসেতুর পিলারগুলোর একটা থেকে আরেকটার দূরত্ব যেহেতু বেশি নয়, রাতের বেলায় ফেরী চলাচলে একটা ঝুঁকি থেকে যায়, তাই রাতে ফেরী চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যতদিন পর্যন্ত স্রোতের ব্যাপারটা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসবে, ততদিন পর্যন্ত এভাবে বন্ধ রাখা হবে।’

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ফেরীগুলোর অনেক ওজন হয়ে থাকে। কোন কারণে স্রোতের সঙ্গে ভেসে গিয়ে সেটা যদি পিলারে লেগে যায়, অথবা পিলারের আশেপাশে গিয়ে চরে আটকে যায়, সেটা পদ্মা সেতুর জন্য একটা ঝুঁকি। আমরা সেই ঝুঁকিটা নিতে চাই না।

গাড়ি চলাচলে আপাতত বিকল্প হিসাবে রাতের বেলায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুট ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন।

বিআইডব্বিউটিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধু শিমুলিয়া ঘাটে যানবাহন চলাচল থেকে প্রতিদিন ২৫ লাখ টাকা আয় হয়ে থাকে। ফলে এখন এই আয় অর্ধেকে নেমে আসতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

তবে রাতের বেলায় কিছু যাত্রীবাহী বাসের পারাপার হলেও প্রধানত পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বরিশাল থেকে ব্যবসায়িক কাজে প্রায়ই ঢাকা আসতে হয় নাজমুল হককে। সেই সাথে প্রায় প্রতিদিনই তার মাছবাহী ট্রাক ঢাকা যায়। তিনি বলছেন, এখন পাটুরিয়া হয়ে যেতে সব মিলিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা বেশি সময় লাগবে। অর্থাৎ ট্রাকের ভাড়া বাড়বে।

সেই সঙ্গে এই ঘাটের সব গাড়ি পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে ভিড় করলে সেখানেও তিনি জট তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও করছেন।

তবে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই ব্যবস্থাটি সাময়িক। নদীর স্রোত কমলে এবং ড্রেজিং এর কাজ শেষ হলেই আবার আগের মতো সবসময় ফেরী চলাচল শুরু হবে। সূত্র : বাসস

Leave a Reply