২৮শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | শনিবার, ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

নাগরপুরে ১টি মোরগের দাম ২০ হাজার টাকা

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ



নাগরপুরে ১টি মোরগের দাম ২০ হাজার টাকা। ছবি প্রতীকী

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
তিলকে তাল বানিয়ে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে মাতাব্বরদের কারসাজিতে ১টি মোরগের দাম হয় ২০ হাজার টাকা।

চাঞ্চল্য ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দপ্তিয়ার ইউনিয়নের ভুগোলহাট গ্রামে।

এ ব্যপারে টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানা আমলী আদালতে গত ২১ সেপ্টেম্বরে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট ২০২০ইং তারিখ শনিবার আব্দুর রাজ্জাক বাবুর একটি মোরগ প্রতিবেশী আ. হালিমের বাড়ী যায়। মোরগটি ওই বাড়ীর কলেজ পড়ুয়া ছাত্র মো. রাকিবের টেবিলে মল ত্যাগ করে। রাকিব ভূলবশত মোরগটির উপর ঢিল ছুড়ে। এতে মোরগটি মরে যেতে পারে এই ভেবে জবাই করে মোরগের মালিক বাবুকে ডেকে দিয়ে দেয় এবং তাদের মধ্যে এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়।

আব্দুর রাজ্জাক বাবু মাতাব্বরদের কাছে মোরগ মারার বিচার চায়। পরে আব্দুর রাজ্জাক বাবু সপরিবারে মোরগটি রান্না করে খাই। গত ২৮/০৮/২০২০ মঙ্গলবার এলাকার মাতাব্বররা আ. সাত্তারের বাড়ীতে আ. কুদ্দুস মিয়ার সভাপতিত্বে সালিশি বৈঠক বসায়। সালিশি বৈঠকে নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে একটি মোরগের দাম ধার্য্য করা হয় ২০ হাজার টাকা ও সেই সাথে কলেজ পড়ুয়া ছাত্র রাবিক কে দেওয়া হয় শারীরিক শাস্তি।

ওই সালিশি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আ. হাই, ফজলু শেখ, মো. কফিল উদ্দিন ও জয়েদ আলী। জুড়ি বোর্ডের সদস্য ফজলু শেখ, আ. সামাদ, সামিম, কোরবান আলী ও মোতালেবের সিদ্ধান্তে লুঘ পাপে এই গুরুদন্ড দেওয়া হয়। ওই বৈঠকে সকলের সমানে রাকিবের পিতা আ. হালিম নিরুপায় হয়ে নগদ ৫০০০ হাজার টাকা দিয়ে মাতাব্বরদের কাছে ক্ষমা চান। কিন্তু প্রভাবশালী মাতাব্বররা ক্ষমা না করে বাকী টাকার জন্য তারিখ দেন।

মাতাব্বদের চাপের কারনে কোন উপায় না থাকায় গত ৪ সেপ্টেম্বর ধারদেনা করে আরো ৩ হাজার টাকা জয়েদ আলী ও কুদ্দুসের হাত দিয়ে পুনরায় বয়স্ক আ. হালিম তাদের কাছে ক্ষমা চান। মোট ৮ হাজার টাকা পেয়েও তুষ্ট হন না মাতাব্বররা। বাকী ১২ হাজার টাকার জন্য হালিমের পরিবার কে চাপ প্রয়োগ এবং ভয়ভীতি দেখায়। কোন উপায়ন্তর না পেয়ে আ. হালিম টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানা আমলী আদালতে গত ২১/০৯/ ২০২০ইং তারিখে একটি মামলা দায়ের করে।

মোরগ মালিক আ.রাজ্জাক বাবু বলেন, দুই দফায় জরিমানার ৮ হাজার টাকা আমি পেয়েছি। বাকী ১২ হাজার টাকা জন্য মাতাব্বর কিনবা হালিমের পরিবার কে কোন প্রকার চাপ প্রয়োগ করিনি।

ভুক্তভোগী পরিবার আ. হালিম জানান, আমার ছেলে ভুল করে প্রতিবেশী আ. রাজ্জাকের একটি মোরগ কে আঘাত করে। আমি মোরগ মালিক কে ডেকে এনে তার মোরগটি বুঝিয়ে দেই। পরে মোরগ মালিক বাবু আমার ছেলের বিরুদ্ধে মাতাব্বরদের কাছে বিচার চান। বিচারে আমার ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও ছেলেকে শারীরিক শাস্তি দেয়। দুই দফায় ৮ হাজার টাকা দিয়ে ক্ষমা চেয়েও রেহাই পাইনি বাকী ১২ হাজার টাকার জন্য আমাকে বিভিন্ন ভাবে চাপ ভয়ভীতি প্রয়োগ করে আসছে। বাধ্য হয়ে আমি টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানা আমলী আদালতে গত ২১/০৯/ ২০২০ইং তারিখে একটি মামলা দায়ের করি।

Leave a Reply