২৪শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | মঙ্গলবার, ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

তাড়াশে যুবলীগ নেতাসহ তিন প্রতারকের ৫ দিনের রিমাণ্ড

প্রকাশিতঃ আগস্ট ১৩, ২০২০, ৫:৩৩ অপরাহ্ণ




বগুড়া প্রতিনিধি
সিরাজগন্জের তাড়াশ থেকে প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার যুবলীগ নেতা তাড়াশ উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি রাব্বী শাকিল ওরফে ডিজে শাকিল (৩২) এর অফিস থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের এক হাজার দু’শ এক কোটি ৭২ লাখ ১০ হাজার টাকার ভুয়া চেক, সামরিক বাহিনীর ভুয়া নিয়োগপত্র, বিভিন্ন গণমাধ্যমের ভুয়া পরিচয়পত্র ও জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামাদী, ভুয়া চুক্তিনামা, ৬০টি সিম কার্ড, তিনটি কম্পিউটার সেট উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে তাদের নামে বগুড়া সদর থানায় প্রতারণা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের হয়। গত বুধবার বগুড়ার আমানত উল্লাহ তারেক নামে এক প্রতারিত ব্যক্তি বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানার মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামী শাকিল তাড়াশ খাঁ পাড়ার বাসিন্দা ও উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি গোলাম মোস্তফার ছেলে। অপর ২জন হলেন- তার সহযোগী আইটি স্পেশালিষ্ট কুস্মদ্বী গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে হুমায়ুন কবির মিলন (২৮) ও ম্যানেজার নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার গাড়ীক্ষেত্র গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে হারুনার রশিদ ওরফে সাইফুল ইসলাম (২৬)।

রাব্বী শাকিল রিশান ইন্টারন্যাশনাল ও ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংক লোন সার্ভিস নামের দু’টি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার কমপক্ষে ২০টি অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের প্রতারনার ফাঁদে পড়ে বহু মানুষ সর্বশান্ত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। শাকিল যুবলীগের নেতা হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ ভয়ে আইনের আশ্রয় নিতে সাহস পায়নি।

বগুড়া ডিবি পুলিশের ওসি আসলাম আলী জানান, বৃহস্পতিবার বগুড়া সদর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামীদের হাজির করে জিঙ্গাসাবদের জন্য ১০ দিনের রিমাণ্ড আবেদন করা হলে আদালত ৫দিনের রিমাণ্ড মন্জুর করেন। বর্তমানে তারা ডিবি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এ মামলা তদন্ত করছেন ডিবির পরিদর্শক ইমরান মাহমুদ তুহিন।

বগুড়া জেলা ডিবি পুলিশ জানায়, ইন্টারন্যাশনাল লোন সার্ভিসের নামে ফেসবুক পেজে বিজ্ঞাপন দেখে বগুড়ার আমায়রা এগ্রোফার্মের মালিক আমানতউল্লাহ তারেক ও অভি এগ্রোফার্মের মালিক আশিক তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কমিশনের মাধ্যমে তাদেরকে পাঁচ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কয়েক দফায় ১৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় ডিজে শাকিল। এরপর তাদেরকে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে ঋণ অনুমোদনের চিঠি এবং সাড়ে চার কোটি টাকার দু’টি চেকের স্ক্যান কপি মেইলে দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও চেকের মূল কপি না দেওয়ায় তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ঋণ অনুমোদনের চিঠি এবং চেকগুলো ভুয়া। পরে তারা বিষয়টি বগুড়া জেলা পুলিশকে জানালে ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ইমরান মাহমুদ তুহিনের নেতৃত্বে গতবুধবার পুলিশের একটি দল তাড়াশে শাকিলের তাড়াশ উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন অফিসে অভিযান চালায়।

Leave a Reply