২৫শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | বুধবার, ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

টিকা আবিষ্কার হলেও করোনা মহামারি দূর হবে কি?

প্রকাশিতঃ জুন ২৩, ২০২০, ১০:২১ অপরাহ্ণ



টিকা আবিষ্কার হলেও করোনা মহামারি দূর হবে কি?

লাইফস্টাইল ডেস্ক:
করোনা সংকট সামলাতে টিকা আবিষ্কারের জোরালো উদ্যোগ চলছে৷ কিন্তু জটিল এই প্রক্রিয়া সফল হলেও মহামারি পুরোপুরি দূর হবে না বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন৷ ভাইরাসের মিউটেশনের কারণে বার বার নতুন টিকার প্রয়োজন হবে৷

ভাইরাস মোকাবিলায় দ্রুত টিকা আবিষ্কার করার জন্য চাপ বাড়ছে৷ সাধারণত প্রতিষেধক তৈরির জন্য বেশ কয়েক বছর সময় লাগে৷ কিন্তু সময়ের চাপে ছ’টি পর্যায় কয়েক মাসের মধ্যেই শেষ করার তোড়জোড় চলছে৷

সবার আগে গবেষকরা ভাইরাস বিশ্লেষণ করেন৷ তারপর ভাইরাসের উপাদান ও বাড়তি পদার্থ দিয়ে তাঁরা সম্ভাব্য টিকা তৈরি করেন৷ তৃতীয় পর্যায়ে পশুর উপর সেই টিকা প্রয়োগ করা হয়৷ তারপর চতুর্থ পর্যায়ে মানুষের উপর সেটি প্রয়োগ করা হয়৷ অবশেষে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেলে ব্যাপক হারে টিকা উৎপাদন শুরু হয়৷

বিজ্ঞানীরা সত্তরটিরও বেশি টিকা প্রকল্পের জন্য দ্রুত এই প্রক্রিয়া শেষ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন৷ কয়েকজন গবেষক এরই মধ্যে চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন, অর্থাৎ স্বেচ্ছাসেবীদর উপর টিকা পরীক্ষা করছেন৷ তা সত্ত্বেও বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ মানুষের নাগালে টিকা পৌঁছাতে কমপক্ষে এক বছর সময় লাগবে৷ গবেষকরা নানাভাবে টিকা আবিষ্কারের চেষ্টা চালাচ্ছেন৷

তথাকথিত ভেক্টর ভাইরাস বা পরিচিত ও ক্ষতিকর নয় এমন ‘জীবন্ত’ টিকা প্রয়োগের চেষ্টা চলছে৷ সেটির মধ্যে কোভিড-১৯-এর জিনোটাইপের অংশবিশেষ চালান করা হয়৷ ফলে সেটির উপরের স্তরে করোনা ভাইরাসের মতো প্রোটিন সৃষ্টি হয়৷ এমন ‘ছদ্মবেশী’ ভাইরাস মানুষের কোনো ক্ষতি করতে পারে না৷ বরং টিকা নেবার পর মানুষের শরীরের প্রতিরোধ শক্তি প্রতিক্রিয়া হিসেবে অ্যান্টিবডি সৃষ্টি করে৷ তখন শরীর আসল করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা গড়ে তুলতে শেখে৷

অন্যরা মৃত টিকা – অর্থাৎ করোনা ভাইরাসের নষ্ট করে দেওয়া অংশ নিয়ে গবেষণা করছেন৷ এভাবেই টিটেনাস ও ফ্লু মোকাবিলা করতে টিকা তৈরি হয়েছিল৷ তবে এই প্রক্রিয়ায় দ্রুত বিশাল পরিমাণ টিকা তৈরি করা কঠিন হবে৷

সর্বশেষ প্রবণতা হলো জিন-ভিত্তিক টিকা৷ তার জন্য ভাইরাস থেকে তথাকথিত আরএনএ বা জেনেটিক গঠনের নির্দেশিকা বার করে নেওয়া হয়৷ এই আরএনএ দিয়ে তৈরি টিকা মানুষের শরীরের মধ্যে ভাইরাসের প্রোটিনের গঠন তরান্বিত করবে, এমনটাই ধরে নেওয়া হচ্ছে৷ কিন্তু এখনো পর্যন্ত এমন কোনো টিকার অনুমোদন দেওয়া হয় নি৷

এই সংকটের সময়ে অনেকেই দ্রুত টিকা আবিষ্কারের আশা করছেন৷ তবে সেটা সম্ভব হলেই যে মহামারি শেষ হবে, এমনটা মনে করার কারণ নেই৷ কারণ ভাইরাসের মিউটেশন বা রূপান্তর ঘটতে পারে, ভাইরাসের জেনেটিক গঠনও বদলে যেতে পারে৷ সে ক্ষেত্রে সফল পরীক্ষা সত্ত্বেও টিকা কোনো কাজে লাগবে না৷ ফ্লু ভাইরাসের জন্য প্রতি বছর নতুন টিকা তৈরি করতে হয়৷ পরিচিত করোনা ভাইরাসগুলিও নিজস্ব ডিএনএ বদলে ফেলার চেষ্টা করে৷

কোভিড-১৯ প্যাথোজেন গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়লেও এখনো পর্যন্ত মিউটেশন ঘটায়নি৷ তা সত্ত্বেও সময়ের সঙ্গে সংগ্রাম চলছে৷ টিকা যত তাড়াতাড়ি আসবে তত বেশি মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া যাবে, তাদের প্রাণ বাঁচানো যাবে৷
সূত্র : ডয়চে ভেলে

Leave a Reply