২৮শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | শনিবার, ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

টাঙ্গাইলে একই পরিবারের চারজন হত্যায় এক আসামীর তিন দিনের রিমাণ্ড

প্রকাশিতঃ জুলাই ২০, ২০২০, ৮:৪১ অপরাহ্ণ




টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলের মধুপুরে স্বামী-স্ত্রী এবং তাদের দুই সন্তানকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার ঘটনায় এক আসামীকে তিনদিনের রিমাণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার বিকেলে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শামছুল আলম এ রিমাণ্ড মঞ্জুর করেন। রিমাণ্ডপ্রাপ্ত এই আসামীর নাম জোয়াদ আলী (৪৫)। তিনি মধুপুরের ব্রাহ্মণবাড়ী এলাকার মৃত আজগর আলীর ছেলে। এর আগে রোববার দুপুরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

টাঙ্গাইলের কোর্ট ইন্সপেক্টর তানবীর আহাম্মেদ জানান, মধুপুরে চাঞ্চল্যকর এই হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জোয়াদ আলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমাণ্ড চেয়ে সোমবার বিকেলে পুলিশ তাকে কোর্টে হাজির করে। শুনানী শেষে ম্যাজিস্ট্রেট ওই আসামীর বিরুদ্ধে তিনদিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করেন।

পুলিশ জানায়, এ মামলায় এখন পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত অপর আসামী হলেন এই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা সাগর আলী (২৭)। তিনি একই এলাকার মগবর আলীর ছেলে। সাগর এই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন এবং সহযোগীদের নিয়ে কিভাবে একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে তার পুরো বর্ণনা দেন তিনি। তার দেয়া তথ্যমতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি এবং বাসা থেকে নিয়ে যাওয়া টিভি, মোবাইলসহ অন্যন্য মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, নিহত গণি মিয়া সুদের কারবার করতেন। সাগরের সাথে তার সুদের টাকার লেনদেন ছিল। পেশায় রিকশাচালক সাগর ছিলেন গণি মিয়ার প্রতিবেশী। আগেও বিভিন্ন সময় গনির কাছ থেকে সাগর সুদে টাকা ধার নেন। কিন্তু তা পরিশোধ করতে কয়েকবার ব্যর্থ হন। ক’দিন আগে গণির কাছে পুনরায় ২০০ টাকা ধার চাইতে গিয়ে অপমানিত হয়ে ফিরে আসেন সাগর। তিনি এই অপমানের প্রতিশোধ নিতেই পরিকল্পিতভাবে গণি মিয়া ও তার স্ত্রী কাজিরন ওরফে বুচি এবং তাদের ছেলে কলেজছাত্র তাজেল ও শিশুকন্যা সাদিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

গত শুক্রবার উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ রোডের মাস্টারপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শুক্রবার রাতে নিহত গণি মিয়ার বড় মেয়ে সোনিয়া বেগম বাদি হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনা তদন্তে অধিক গুরুত্ব দিয়ে মাঠে নামে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকটি সংস্থা। মাত্র তিনদিনেই চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়।

সোমবার রাতে মধুপুর থানার ওসি তারিক কামাল নয়া দিগন্তকে বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা গ্রেফতারকৃত সাগরকে অধিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতেই রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার তাকে কোর্টে হাজির করা হবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply