২৯শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | রবিবার, ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

জোয়ারে প্লাবিত ভোলার ইলিশা ফেরীঘাট

প্রকাশিতঃ জুন ১৯, ২০২০, ৫:৪০ অপরাহ্ণ



ভোলা প্রতিনিধি
জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে ভোলার ইলিশা ফেরীঘাট। এতে পণ্যবাহী যানবাহন বা পরিবহনগুলো উঠা-নামা করতে পারছে না। জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভর করে চলছে হচ্ছে ফেরী। হাই-ওয়াটার ঘাট মেরামত না করায় গত এক মাস ধরে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন ফেরী কর্তৃপক্ষ। ঘাটটি দ্রুত সংস্কারের জন্য জানিয়েছেন তারা।

এদিকে ঘাটের সমস্যার কারণে একদিকে যেমন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পরিবহন চালক-শ্রমিকরা অন্যদিকে এ অঞ্চলের যাত্রীরাও চরম বিঢ়ম্বনায় মধ্যে পড়ছেন। নিদিষ্ট সময় গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না কোন যানবাহন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাটেই অপেক্ষা করতে হয় তাদের।

স্থানীয় সুত্র জানিয়েছে, ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে জোয়ারের পানিতে ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় ভোলা অংশের ইলিশা ঘাট এবং নাব্যতা সংকটে লক্ষ্মীপুর অংশের রহমতখালী পয়েন্টে নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। এতে প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা ফেরী চলাচল বন্ধ রাখতে হচ্ছে। যে কারণে উভয় পাড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানযট।
ভোলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিআইডব্লিটিসির ফেরীর কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ঘূর্ণিঝড় আমফানের সময় হাইওয়াটার (উচুঘাট) ঘাটটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, এরপর ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে পল্টুনটিও। এ দুটির মেরামত কাজ চলছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত ঘাটের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসেনি। এতে ফেরীর ট্রিপ কমে গেছে। আগে যেখানে দৈনিক ৮ বার করে ফেরী আসা যাওয়ায় করতে সেখানে ৪ বারের বেশী ফেরী ট্রিপ দিতে পারছে না। এতে সবার ভোগান্তি হচ্ছে। ফেরী ট্রিপ কমে যাওয়ায় ঘাটেও দীর্ঘ লাইন। এছাড়াও বাঁধের কারনে ঠিকমত গাড়ি উঠতে পারছে না।

জানা গেছে, ভোলার সাথে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর সাথে যোগাযোগের একমাত্র সহজ মাধ্যম ভোলা-লক্ষ্মীপুর ফেরী রুট। দেশের দীর্ঘতম এ রুটে প্রতিদিন ৩টি করে ফেরী চলচলা করে আসছে। হাজার হাজার যাত্রী ও পরিবহন নির্ভনশীল এ রুটটি উপর।

ঘাটে অপেক্ষমান যাত্রী মনজুর রহমান জানান, শুক্রবার দুপুরের জোয়ারের পানিতে পুরো ঘাট তলিয়ে যেতে দেখেছি, এ অবস্থায় মানুষ কিভাবে ফেরীতে উঠবে, জোয়ারের পানি কমে গেলে মানুষ ফেরীতে উঠতে পারবে। যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত ঘাটটি মেরামত করা প্রয়োজন।

অপর যাত্রী জহির রায়হান জানান, আমরা প্রতিনিয়ত এ রুট দিয়ে যাতায়াত করি কিন্তু মাঝে মাঝে এমন বিরম্বনার মধ্যে পড়ছি। যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে দ্রুত ঘাটটি মেরামত করা দরকার। কয়েকজন যাত্রী ও ট্রাক শ্রমিক অভিযোগ করেন, ভোলা-লক্ষীপুর রুটটি অত্যান্ত গুরুপ্তপুর্ন রুপ কিন্তু সে তুলনায় এখানে একের পর এক সমস্যা লেগে রয়েছে। তাই দীর্ঘতম রুটটির সকল সমস্যা সমাধানের দাবী তোলেন তারা।

এ ব্যাপারে ভোলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিআইডব্লিটিএ উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান জানান, হাইওয়াটার ঘাটের পল্টুনটি মেরামত হয়ে গেছে, আগামী দু’একদিনের মধ্যে সেটি ঘাটে যুক্ত হবে। তখন আর এ সমস্যা থাকবে না।

Leave a Reply

এই বিভাগের আরো খবর