২৭শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | শুক্রবার, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

ছাগলনাইয়া থানার সাবেক ওসি মোর্শেদসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ৩, ২০২০, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ



ছাগলনাইয়া থানার সাবেক ওসি মোর্শেদসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা। ছবি সংগৃহীত

ফেনী প্রতিনিধি:
ক্রসফায়ার করে হত্যা চেষ্টা ও ইয়াবা দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ এনে ছাগলনাইয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এম মুর্শেদসহ ১১ পুলিশ সদস্য ও ২ জন পুলিশের সোর্সসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসানের আদালতে মোঃ গিয়াস উদ্দিন দুলাল নামে এক ব্যাক্তি মামলা করেন।

মামলার বিবরনে জানা যায়, বাদি গিয়াস উদ্দিন দুলাল একজন পিকআপ চালক। তিনি গত বছরের ১৭ জানুয়ারি দুপুরে ফেনী সদরের কাজীরবাগে মাটি ক্যারিং করার সময় তাকে মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে থানার আবুল হাসেম ও আবুল খায়ের নামে দুই সোর্সসহ পুলিশ সদস্যরা এসে তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এসময় তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিকালে তারা কাজীরবাগ থেকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে ছাগলনাইয়ার পাঠাননগর এলাকায় ব্রাদার্স ব্রিকফিল্ড এ নিয়ে যায়। সেখানে ওসি মোর্শেদ এসে চোখ বেঁধে পুনরায় ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেন। কিন্তু চাঁদা দিতে আবারো অস্বিকৃতি জানালে তারা ক্রসফায়ারের হুমকি দেয়।

পরে খবর পেয়ে সেখানে দুলালের মা ও বোন ১ লাখ দেয়ার কথা বললেও ওসি রাজী না হওয়াতে পূনরায় চোখ বেধেঁ মাইক্রোবাসে করে একই উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রামের রাস্তায় মাথায় একটি নির্জন স্থানে নিয়ে ওসি মোর্শেদের নির্দেশে বেধড়ক পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়।

একপর্যায় ওসি মোর্শেদের সাথে ঘটনাস্থলে থাকা সুকান্ত বড়ুয়া নামে এক পুলিশ সদস্যের শটগান নিয়ে দুলালের ডান পায়ে ৩ রাউন্ড গুলি করে। এরপর তাঁরা দুলালকে এলোপাথাড়ি লাথি মেরে মৃত্যু নিশ্চিত করার চেষ্টা করে। পরে দুলাল অজ্ঞান হয়ে পড়লে মৃত্যু হয়েছে ভেবে তারা ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থা আশংকাজনক দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে প্রেরণ করে। অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার করে ডান পা কেটে ফেলে। পরে পুলিশের হেফাজতে ৭ দিন চট্রগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার বিরুদ্ধে ফের ১৪শ পিস ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মিথ্যা মামলা দায়ের করে কারাগারে প্রেরণ করে।

গিয়াস উদ্দিন আরো বলেন, পঙ্গু হবার পর থেকে অসুস্থ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তাই মামলা দায়েরে বিলম্ব হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবি করেছেন তিনি।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন নান্নু জানান, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেয়ার জন্য আবেদন করেন।

Leave a Reply