২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | বৃহস্পতিবার, ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

গোপালপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি অভিযোগ

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ৫, ২০২০, ৭:১৪ অপরাহ্ণ



ফরিদপুর প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ২নং গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরী বেগমর বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে প্রতিবেদন কালে জানা যায়, গত ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি শপথ নেয়ার পরে প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তার স্বামী বেলায়েত হোসেন কে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়নমূলক কাজের নাম করে ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে সালিশ বৈঠকের নামে সুকৌশলে টাকা হাতিয়ে নেয়া শুরু করেন।

একাধিক ব্যক্তি প্রতিবেদকের কাছে বলেন,নুরী বেগমকে অনেক আশা নিয়ে ভোট দিয়েছিলাম সে নিজেকে সৎ রেখে ওয়ার্ড বাসির খেদমত করবে। কিন্তু আমরা পেলাম তার উল্টো চিত্র।

বাজরা গ্রামে কালু শেখ ও তার স্ত্রী বলেন,আমাদের কাছ থেকে ২ বছর আগে মাননীয় শেখ হাসিনার আশ্রয়ন প্রকল্পের ১৭-১৮ অর্থ বছরের ঘর বরাদ্দের নামে দশ হাজার টাকা ঘুষ নেয়। কালক্ষেপণ করে টাকা ঘর কোনটাই ফেরত দেয় নাই। সম্প্রতি উপজেলাতে মহল্লাদার নিয়োগের নামে উপর মহলে ঘুষ দেয়ার কথা বলে আমার ছেলেকে চাকুরি দেবে মর্মে এক লক্ষ চল্লিশ টাকা নেয়। চাকরি না হওয়ায় নুরী বেগম তার দেয়া টাকা এখনো ফেরত না দিয়ে নানান তালবাহানা করছে।

চরবাজড়া গ্রামের বাকপ্রতিবন্ধী ইকলাছ ও তার স্ত্রীর কাছ থেকে ওই ঘর দেওয়ার নামে বিশ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।

ঐ গ্রামে দলিল উদ্দিন ফকির কে বয়স্ক ভাতা করে দেওয়ার নামে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা ঘুষ নেন।

শাবু মোল্যা (৫০) কে ঘর দেয়ার নামে বারো হাজার টাকা ঘুষ নেন। তিন বছর আগে টাকা নিয়ে আজও ফেরত দেননি বলে অভিযোগ করেন।

বাজড়া গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১ ব্যাক্তি অভিযোগ করে বলেন, আমাদের নামে ঘর না দিয়ে নিজের বাড়ি সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পের দুটি ঘর বিলায়েত ও তার মায়ের নামে নিয়েছে। নুরি বেগম স্বামী বেলায়েত হোসেন ঘর পাওয়ার বিষয়টি সংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেন। উপজেলাতে মহল্লাদার নিয়োগের বিষয়টি জানতে চাইলে টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।

গোপালপুর ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরী বেগম সাংবাদিকদের বলেন, এসব টাকা আমি নেই নাই।

সুশীল সমাজের বেশ কয়েকজন বলেন, নুরী বেগমের স্বামী আগে রাজমিস্ত্রি কাজ করত। মেম্বার ও চেয়ারম্যান হওয়ার পরে বিভিন্ন লোকদের ধোকা দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে এখন এলাকার বিত্তশালি হিসেবে পরিচিতি লাভ করছেন। পাওনারদাররা এখন টাকা চাইলে টাকা ফেরত না দিয়ে তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করছে। ভুক্তভোগিরা প্রশাসনের কাছে প্রতিকার দাবি করেছে।

এদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম জাহিদুল হাসান(জাহিদ) ঘুষ দূর্নীতি মাদক ইভটিজিং নির্মূলের ঘোষনার পরিপেক্ষিতে বক্তব্য নিতে গেলে একাধিকবার ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি এবং অফিসে গেলে পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply