২৫শে অক্টোবর, ২০২০ ইং | রবিবার, ৯ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

করোনা থেকে মুক্তির জন্য মধ্যরাতের আজানের ধ্বনি

প্রকাশিতঃ মার্চ ২৭, ২০২০, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ | শেষ আপডেটঃ মার্চ ২৭, ২০২০, ৬:৪০ পূর্বাহ্ণ



 

পঁচাওর রিপোর্ট:
বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মরণব্যাধি করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী ,কুমিল্লাসহ আশপাশের এলাকায় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাত ১০:৩০ মিনিটে সম্মিলিতভাবে আজান দিতে শোনা গেছে।

দেশে ১০ দিনের লকডাউনে বিভিন্ন এলাকায় রাতের নিস্তব্ধতাকে ভেঙে আজানের ধ্বনি। বিভিন্ন মসজিদে আর ঘরের জানালা বা বারান্দায় দাঁড়িয়ে স্থানীয়রা আজান দেন। করুন সেই সুরে ছিল করোনা থেকে মুক্তির আকুতি।

জানাগেছে, করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে কয়েকটি ইসলামী সংগঠনের আহ্বানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একত্রিত হয়ে এই সম্মিলিত আজানের আয়োজন করা হয়।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থেকে আব্দুল কাইয়ুম এমন তথ্য নিশ্চিত করে জানান, হঠাৎ এমন আজানের শব্দে মানুষের মনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

কুমিল্লা থেকে খলিল মোল্লা জানান, এলাকার প্রত্যেকটি বাড়ি ও মসজিদে সবাই একযোগে আজান দিচ্ছে, এতে করে মানুষের মনে হঠাৎ ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফেনী থেকে কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, একটি বাচ্চা হঠাৎ করে জন্ম নিয়ে কথা বলতে শুরু করে, এসময় বাচ্চাটি বলেছে ঘরে ঘরে আযান ও দারচিনি এলাচি দিয়ে রং চা খেলে করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে’ এই তথ্য দিয়ে বাচ্চাটি আবার মৃত্যুবরণ করেছে।

সেলিনা আক্তার নামে একজন জানিয়েছে রাত বারোটার পরে ভূমিকম্প হবে এজন্য আজান দিচ্ছে প্রতিটি মসজিদে ও বাড়িতে বাড়িতে।

কয়েকজন মসজিদের ইমামের সাথে কথা বললে তারা জানান, এটা এক ধরনের গুজব, কিছু নামধারী মোয়াজ্জেম এ ধরনের আযান দিয়েছেন।

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, আজান ইসলামের এক মৌলিক ইবাদত নামাজের দিকে আহ্বানের মাধ্যম। আজানের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত অবতীর্ণ হয়,বিপদ ও আজাব দূরীভূত হয়। হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসে হুযুর (ﷺ) এরশাদ করেন- “اِذَا اُذِّنَ فِیْ قَرِیَةٍ اٰمَنَھَا اللہُ مِنْ عَذَابِهٖ فِیْ ذٰلِكَ الْیَوْمِ” যখন কোন গ্রামে আজান দেয়া হয়, তখন মহান আল্লাহ (ﷻ) সেদিন ওই গ্রামকে তার আজাব থেকে নিরাপদে রাখেন।

মহামারির সময় আজান দেয়া একটি মুস্তাহাব বিষয়। ফিকহে হানাফীর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ রদ্দুল মুখতার বা ফতোয়ায়ে শামীতে আজানদানের ১০টি মুস্তাহাব সময়ের মধ্যে মহামারির সময় আজানের কথা উল্লেখ রয়েছে। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা মহামারি থেকে রক্ষায় অন্যান্য আমলের পাশাপাশি আজান দেয়া একটি শরীয়ত সমর্থিত মুস্তাহাব আমল। এটার জন্য কোনো সময় নির্ধারিত নেই।

Leave a Reply

এই বিভাগের আরো খবর