২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | বৃহস্পতিবার, ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

করোনায় আক্রান্ত চট্টগ্রামের রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা সুস্থ

প্রকাশিতঃ আগস্ট ১৪, ২০২০, ৩:১৫ অপরাহ্ণ



করোনায় আক্রান্ত চট্টগ্রামের রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা সুস্থ।

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত চট্টগ্রামের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রায় সবাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এঁদের মধ্যে কয়েকজন সুস্থ হয়ে আবার কাজে যোগ দিয়েছেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে রয়েছেন : দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ সালাম, বাঁশখালী থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দর চৌধুরী বাবুল ও সীতাকু- উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম আল মামুন।

প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে আক্রান্ত হন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. মাহবুবুর রহমান ও বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির। আক্রান্তদের মধ্যে পুলিশ কমিশনার, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ও রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ইতিমধ্যে কাজে যোগ দিয়েছেন। অন্যরা সুস্থ হয়ে উঠলেও চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় থাকছেন।

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমেদ গত ১০ জুন অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওইদিন রাতে নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টে তাঁর স্ত্রী ভাই মেয়েসহ পরিবারের মোট ১৪ জন পজিটিভ বলে জানানো হয়। পরদিন দুপুরে সড়কপথে তিনি সপরিবারে ঢাকায় চলে যান। ঢাকায় তিনি, তাঁর স্ত্রী, বোন ও মেয়ের জামাইকে আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তাঁরা ১১ দিন হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। পরিবারের অন্যরা বাসায় থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেন।

এমপি মোসলেম বাসসকে জানান, ‘জটিলতা থাকায় তিনি ও তার স্ত্রী, বোন ও মেয়ের জামাইকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তারা ১১ দিন হাসপাতালে ছিলেন। অন্যরা বাসায় থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে সবাই সুস্থ। তার এখনো দুর্বলতা রয়ে গেছে। বুধবার তিনি ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফিরেন।

উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ সালাম ১২ জুলাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। ২৪ জুলাই তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে ১১ দিন চিকিৎসাশেষে ৪ আগস্ট হাসপাতাল থেকে রিলিজ করা হয় তাঁকে। সালামের স্ত্রীও করোনা আক্রান্ত ছিলেন। তবে মৃদু উপসর্গ থাকায় বাসায় রেখে তাঁকে চিকিৎসা দেয়া হয়।

এমএ সালাম বাসসকে জানান, ‘করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিনি ১১ দিন চমেক হাসপাতালে ছিলেন। এখন করোনা থেকে মুক্তি পেলেও অন্য একটি পুরোনো রোগে বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে তাকে। মূলত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কারণেই এই রোগটি নতুন করে ভোগাচ্ছে।’

বাঁশখালী থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য অসুস্থ বোধ করায় ১ জুন করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। ৪ জুন তাঁর রিপোর্ট পজিটিভ বলে জানানো হয়। এমপি মোস্তাফিজ ছাড়াও তাঁর স্ত্রী, ৩ মেয়ে, দুই মেয়ের জামাই, ৮ বছর বয়সী নাতনি এবং ৪ জন গৃহপরিচারিকা করোনা আক্রান্ত হন। ২৬ জুন পুনরায় টেস্ট করানো হলে রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।

এমপি মোস্তাফিজুর রহমান বাসসকে জানান, ‘করোনা ভাইরাসে পরিবারের ১২ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শে নিজের বাসায় আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। ঘরের মাত্র দু’জন ৩ বছর বয়সী একটি নাতনি ও একজন গৃহপরিচারিকার রিপোর্ট নেগেটিভ ছিল। মূলত এ দু’জনকেই আইসোলেশনে রেখে তাদের করোনাকাল কেটেছে।’

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান ৭ জুন অসুস্থ হয়ে পড়েন। ৯ জুন তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। সংক্রমিত হওয়ার পর চট্টগ্রামে সরকারি বাসভবনে থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি। তবে, করোনা আক্রান্ত হলেও তার শরীরে জ্বর বা তেমন কোনও উপসর্গ ছিল না। ১৫ দিন পর করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেন সিএমপি কমিশনার।

নিজের চিকিৎসা সম্পর্কে সিএমপি কমিশনার বলেন, ‘বাসায় আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন এবং করোনা রোগীর জন্য দেয়া পরামর্শ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন। সুস্থ হওয়ার পরও ডাক্তারের পরামর্শে আইসোলেশনে ছিলেন। পরপর দু’বার নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসার পর কাজে যোগ দিয়েছেন তিনি ।’

চট্টগ্রামের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন ২৩ জুন। এসময় তার বাবা-মা ও একজন কেয়ারটেকারও করোনাক্রান্ত হন। তারা ঢাকায় আনোয়ার খান হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে তাঁর মা মৃত্যুবরণ করেন। অন্যরা সবাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ইতিমধ্যে চট্টগ্রামে তাঁর কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন।

সীতাকু- উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম আল মামুন ৭ জুন করোনা আক্রান্ত হন। ১০ জুন নগরীর সার্জিস্কোপ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৫ জুন থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত তিনি স্কয়ারের আইসিইউতে ছিলেন। অবস্থার একটিু উন্নতি হলে তাঁকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। মোটামুটি সুস্থ হয়ে উঠায় ১৪ জুলাই তিনি চট্টগ্রাম চলে আসেন। সূত্র : বাসস

Leave a Reply

এই বিভাগের আরো খবর