২৫শে অক্টোবর, ২০২০ ইং | রবিবার, ৯ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

ঈদের সালাত নিয়ে যা বললেন আজহারী

প্রকাশিতঃ মে ২২, ২০২০, ৫:১১ অপরাহ্ণ | শেষ আপডেটঃ মে ২৩, ২০২০, ৫:২৫ পূর্বাহ্ণ



পঁচাত্তর রিপোর্ট
দেশের জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারী। তিনি এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মানুষের সহায়তায় ইউটিউব-ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সকলের সাথে যুক্ত আছেন। বিগত যেকোনো বছরের ঈদের তুলনায় এই বছরের ঈদটি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। কেননা এই মহামারিকালীন সময়ে ঈদের সালাত জামায়াতে আদায় করা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই সকল মুসলিমের সুবিধার্থে ঈদের সালাত আদায়ের নিয়মাবলি বর্ণনা করে আজহারী সাহেব একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। ভিডিওতে করোনা পরিস্থিতিতে সংক্রমণ ঠেকাতে ও সুস্থতা বজায় রাখতে তিনি ঈদের সালাত একা বা ঘরে আদায় করার পরামর্শ দিয়েছেন।

ড. আজহারী জানান, ঈদের নামাজে আজান ও ইকামাত দেয়ার প্রয়োজন নেই। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী ঈদের নামাজে নিয়মাবলীগুলো হলো- ঈদের নামাজ সাধারণত দুই রাকাত হয়ে থাকে। ফজরের নামাজের ন্যায় আওয়াজ করে তাকবির পড়তে হয়। তবে ঈদের নামাজে অতিরিক্ত কিছু তাকবির দিতে হয়। অতিরিক্ত তাকবিরের বর্ণনা দিয়ে আজহারী বলেন, মাজহাব ভেদে তাকবিরের সংখ্যার পার্থক্য রয়েছে। হানাফি মাজহাবে ছয়টি অতিরিক্ত তাকবির দেয়া হয়ে থাকে। প্রথম রাকআতে তিনটি দ্বিতীয় রাকাআতে তিনটি।

সাফি মাজহাবে ১২টি অতিরিক্ত তাকবির দিতে হয়। সেক্ষেত্রে প্রথম রাকআতে সাতটি ও দ্বিতীয় রাকআতে পাচটি। হাম্বলি আর মালিকি মাজহাবে ১১টি অতিরিক্ত তাকবির দেয়া হয়ে থাকে। প্রথম রাকাআতে ছয়টি আর দ্বিতীয় রাকাআতে পাচটি।

তবে বাংলা ভাষাভাষীরা মূলত হানাফি মাজহাবের অনুসারী হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে আজহারী সাহেব ছয় তাকবিরের পরামর্শ দিয়েছেন। তার বর্ণনা অনুযায়ী নামাজ আদায়ের পদ্ধতি হলো- নামাজে দাঁড়িয়ে তাকবিরে তাহরীমা অর্থাৎ ‘আল্লাহু আকবার’ বলে সানা পড়তে হবে। তারপর কেরআত পড়ার আগে অতিরিক্ত তিনটি তাকবির দিতে হবে অর্থাৎ ‘আল্লাহু আকবর’ তিনবার বলতে হবে। এরপর সূরা ফাতেহার সাথে অন্য একটি সূরা এবং অন্য সকল নামাজের ন্যায় রুকু ও সিজদাহ করতে হবে।

এবার দ্বিতীয় রাকাআতের জন্য দাড়িয়ে প্রথমে কেরআন পড়তে হবে অর্থাৎ সূরা ফাতেহা ও সাথে অন্য একটা সূরা পড়তে হবে। এরপর রুকুতে যাওয়ার আগে তিনটি তাকবির অর্থাৎ ‘আল্লাহু আকবার’ তিনবার বলতে হবে এবং চতুর্থ তাকবির দিয়ে তারপর রুকুতে যেতে হবে। এখানে তিনটি অতিরিক্ত তাকবির ও চতুর্থটি নামাজের স্বাভাবিক তাকবির। এভাবে ছয়টি অতিরিক্ত তাকবির দেয়ার মধ্য দিয়ে খুব সহজেই ঈদের নামাজ আদায় করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন ড. আজহারী। তবে ঘরে ঈদের সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে খুতবার প্রসঙ্গটি বাদ যাবে। কেননা খুতবা সকলের উদ্দেশে ইমাম সাহেব দিয়ে থাকেন।

আল্লাহ পাকের কাছে মহামারিকালীন সময়ে সাহায্য ও রোগমুক্তির জন্য প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একইসাথে সকলের রোগমুক্তি কামনা করেছেন।

Leave a Reply

এই বিভাগের আরো খবর