২৭শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | শুক্রবার, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

আজ ভূরুঙ্গামারী হানাদার মুক্ত দিবস

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ১৪, ২০২০, ১২:২৭ অপরাহ্ণ



আজ ভূরুঙ্গামারী হানাদার মুক্ত দিবস। ছবি সংগৃহীত

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
আজ ১৪ নভেম্বর ভূরুঙ্গামারী পাক হানাদার মুক্ত দিবস। আজকের এই দিনে উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা প্রথম হানাদার মুক্ত হয়। রাতভর তুমুল যুদ্ধের পর মুক্তিবাহিনী এবং মিত্র বাহিনীর ত্রিমুখী আক্রমণে দিশেহারা হয়ে দিনের আলো ফোটার আগেই এ অঞ্চল ত্যাগ করতে বাধ্য হয় পাক বাহিনী। ফলে দেশের মানচিত্রের কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় ১৯৭১ সালের এইদিনে উড়ানো হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা।

প্রতি বছর উপজেলা প্রশাসন,মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সহায়তায় ভূরুঙ্গামারী প্রেসক্লাব দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে।

দিবসটি পালন উপলক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ, র‌্যালি, পদক বিতরণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে।

১৯৭১ সালের এইদিনে ৬নং সেক্টরের অধীন সাহেবগঞ্জ সাব-সেক্টরের মাধ্যমে ভূরুঙ্গামারীর দক্ষিণ দিক খোলা রেখে পশ্চিম, উত্তর ও পুর্ব দিক থেকে এক যোগে আক্রমণের সিন্ধান্ত নেয়া হয়। পরিকল্পনা মোতাবেক মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় বাহিনীর যৌথ নেতৃত্বে প্রবল আক্রমণ শুরু হয়। ১৩ নভেম্বর মিত্র বাহিনীর কামান, মর্টার প্রভৃতি ভারী অস্ত্র দিয়ে গোলা বর্ষণ শুরু হয় এবং ভারতীয় যুদ্ধ বিমান আকাশে চক্কর দিতে থাকে। অবশ্য এর একদিন আগে থেকেই মিত্র বাহিনীর বিমান শত্রুদের উপর গোলা বর্ষণ শুরু করেছিলো। ভোর হবার আগেই পাকবাহিনীর গুলি বন্ধ হয়ে যায়। পাক সেনারা পিছু হটে পার্শবর্তী নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ নামক স্থানে অবস্থান নেয়। ১৪ নভেম্বর ভোরে মুক্তি বাহিনী জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে ভূরুঙ্গামারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও সিও (বর্তমান উপজেলা পরিষদ) অফিসের সামনে চলে আসে। এসময় বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

এ যুদ্ধে একজন পাক ক্যাপ্টেন( আতাউল্লা খান)সহ ৪০/৫০ জন পাকসেনা নিহত হয় এবং ৩০/৪০ জন পাকসেনা আটক হয়। ঐ সময় সিও’র বাসভবন (বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাসভবন) এর দোতলায় তালা বদ্ধ অবস্থায় কয়েকজন নির্যাতিতা মহিলাকে উলঙ্গ অবস্থায় পাওয়া যায়। এদের অনেকে ৫/৬ মাসের অন্তসত্বা ছিলেন। এভাবে ভূরুঙ্গামারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি তালা বদ্ধ কক্ষ থেকে ১৬ জন নির্যাতিতা মহিলাকে উদ্ধার করা হয়।

ভূরুঙ্গামারী দেশের প্রথম মুক্তাঞ্চল হিসাবে সরকারি স্বীকৃতির বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আকতারুজ্জামান মন্ডল বলেন, আমরা এ বিষয়টি নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ অব্যহত রেখেছি। খুব দ্রুত এর সমাধান পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।

Leave a Reply